করোনা ভাইরাস কিভাবে কাজ করে?

1

করোনা ভাইরাস কিভাবে কাজ করে?

লেখক: সৈয়দ ইসকান্দার আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী , গণপূর্ত ই/এম কারখানা বিভাগ, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।

চিত্র সংগ্রহ: নিউ ইয়র্ক টাইমস।

বর্তমান বিশ্ব করোনা ভাইরাস রোগে ( COVID-19) ভুগছে তীব্রভাবে। নতুন এ ভাইরাস কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে জানতে হলে এ ভাইরাসের গঠন সম্পর্কে আগে জানতে হবে। ভাইরাসটি একটি প্রোটিন এবং লিপিড (চর্বি) সমন্বয়ে তৈরী বর্তুলাকার (ফুটবলের ন্যায়) স্তরে গঠিত। এ স্তর থেকে পেরেকের মত প্রোটিন স্পাইক বের হয়েছে । দেখতে কিছুটা ভেরেন্ডার ন্যায়।এ স্পাইকের কারণে এর নাম হয়েছে করোনা। করোনার এনভেলপের ভিতরে রয়েছে আরএনএ (RNA)। এনভেলপ বা বাইরের আবরণটি যেহেতু চর্বি দিয়ে গঠিত, সাধারণ সাবান এই চর্বির সাথে বিক্রিয়া করে এ স্তরকে ধ্বংস করে দেয়।

শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে যখন এ ভাইরাসটি আমাদের শ্বাসনালীতে ঢুকে তখন শ্বাসনালীর বা ফুসফুসের কোষের সংস্পর্শে চলে আসে। এ সকল মানবকোষের উপরিভাগে ACE-2 (Angiotensin- Converting Enzyme 2) নামক প্রচুর প্রোটিন রিসেপ্টর থাকে। কোষের এই প্রোটিন রিসেপ্টর ভাইরাসের প্রোটিন স্পাইকের সাথে মিলে যায় এবং মানব কোষ ও ভাইরাসের বাইরের স্তর একত্রে ফিউজ হয়ে ভাইরাসের চর্বির স্তরকে উম্মুক্ত করে ফেলে।

 

 

ভাইরাসটি উম্মুক্ত এই জায়গা দিয়ে ভিতরে থাকা RNA কে ছেড়ে দেয় আক্রান্ত কোষের ভিতরে। এরপর করোনা ভাইরাস আর কিছুই করে না। যা করার আক্রান্ত কোষ নিজে নিজেই করে। RNA পাওয়া মাত্রই আক্রান্ত কোষ এটাকে রিড করে এবং প্রোটিন বানানো শুরু করে। আক্রান্ত কোষটি তখন হয়ে যায় ভাইরাস উৎপাদনের ফ্যাক্টরি। ভাইরাসের RNA এর জিনোম কোড মাত্র ৩০,০০০ লেটারের চেয়েও কম। আর মানব কোষের একটির জিনোম কোডে প্রয়োজন হয় ৩ বিলিয়নেরও বেশি লেটার। ফলে এই ভাইরাস তৈরী করা কোষের জন্য একেবারেই সহজ। এই সহজ কাজ করতে করতে কয়েক বিলিয়ন ভাইরাস তৈরী করে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। আর আক্রান্ত মৃত সেল থেকে কোটি কোটি ভাইরাস বেরিয়ে পাশের সেলগুলোকে একই প্রক্রিয়ায় আক্রমণ করে।

ফুসফুসের সেল এভাবে মরে গেলে তা থেকে পুঁজের সৃষ্টি হয়, প্রদাহ বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলভিওলি এবং ব্রংকিউলগুলোকে জ্যাম করে ফেলে। ফলে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট।

যেহেতু কোন ভাইরাস হোস্ট সেল ছাড়া বেশিদিন বাঁচে না, সেহেতু এটাকে নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় আক্রান্ত ব্যক্তির নিকট মাস্ক, গগলস ব্যবহার করে যাওয়া কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোয়ারান্টাইনে পাঠানো। হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু, রুমাল, বাহুর জামা ব্যবহার করা। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পর সাবান দিয়ে হাত মুখ ২০ সেকেন্ডের বেশি সময় ধরে ধুয়া, সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা এবং ৩ ফুটের বেশি শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সে.। কাজেই এই তাপমাত্রায় বা এর নিচের তাপমাত্রায় ভাইরাসটি মরে না। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ৭০ডিগ্রি সে. তাপমাত্রায় ভাইরাসটি মারা যায়।

1 টি মন্তব্য
  1. Abdullah Al Faruque বলেছেন

    Very informative article! it could be helpful is we follow the instruction as you shared.. best wishes..

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

%d bloggers like this: