র‍্যানসমওয়্যার হামলার মাধ্যমে সর্বাধিক আয় করেছে রুশ হ্যাকাররা

0

২০২১ সালে র‍্যানসমওয়্যার হামলার মাধ্যমে আয়কৃত মোট অর্থের ৭৪ শতাংশ রাশিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের হাতে গিয়েছে। সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে এমনটা উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, গত বছরে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন র‍্যানসমওয়্যার হামলার মাধ্যমে অর্জিত ৪০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি কুক্ষিগত করেছে রুশ হ্যাকাররা। গবেষকরা দাবি করেছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক মুদ্রা পাচারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই রাশিয়ান ক্রিপ্টো কোম্পানিগুলোর কাছে যাচ্ছে। তবে এসব সাইবার অপরাধীকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি চেইনঅ্যানালিস এ গবেষণা পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা বিভিন্ন পাবলিক ব্লকচেইন ট্রানজেকশন রেকর্ড ব্যবহার করে পরিচিত হ্যাকিং গ্রুপগুলোর ডিজিটাল ওয়ালেটে অর্থপ্রবাহ অনুসরণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, কোন হ্যাকিং গ্রুপগুলো রাশিয়ান, তা শনাক্ত করা সম্ভব, কারণ এসব হ্যাকিং গ্রুপ বিভিন্ন ধরনের আচরণ করে। যেমন তাদের র‍্যানসমওয়্যার কোডগুলো লেখা হয়, যাতে রাশিয়া অথবা কমনওয়েলথ ও সিআইএসভুক্ত (কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটস-পূর্ব ইউরোপ ও এশিয়ার সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশগুলোর সংগঠন) দেশগুলোর কোনো কম্পিউটারে তা আক্রমণ করলে ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সন্দেহযুক্ত হ্যাকিং গ্রুপ রুশভাষী ফোরামে রাশিয়ানদের নিয়ে কাজ করে। এছাড়া এসব হ্যাকিং গ্রুপ ইভিল করপোরেশনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, গ্রুপটিকে সাইবার অপরাধের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

গবেষকরা জানান, এসব হ্যাকিং গ্রুপের অধিকাংশই রাশিয়া ও সিআইএসভুক্ত দেশগুলো থেকে পরিচালিত হয়।

চেইনঅ্যানালিসের প্রতিবেদনে শুধু অর্থপ্রবাহ শনাক্ত করা হয়েছে, যা সাইবার অপরাধী গ্যাংয়ের নেতাদের কাছে পৌঁছে। এসব অর্থ বিভিন্ন হ্যাকিং অপারেশনে ব্যবহূত টুল ক্রয় বা ভাড়া করতে ব্যয় করা হয়। ফলে এটা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি যে একক কোনো হ্যাকার কোথা থেকে এ বৃহৎ হ্যাকিং গ্রুপের হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গত বছর র‍্যানসমওয়্যার হ্যাকিং বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে একটি বড় ধরনের অপারেশন পরিচালনা করা হয়। বেশকিছু উচ্চপদস্থ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংস্থার কম্পিউটার সাইবার হামলার শিকার হওয়ার পর এ অপারেশন পরিচালনা করা হয়। যেমন আয়ারল্যান্ডের হেলথ সার্ভিসের ওয়েবসাইট ও যুক্তরাষ্ট্রের তেল পাইপলাইন হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার পর এসব অপারেশন পরিচালনা করা হয়। রোমানিয়া, ইউক্রেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও কুয়েতে এসব হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়। এ সময় র‍্যানসমওয়্যার অপরাধীদের ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে কয়েক লাখ ডলার সফলভাবে ফেরত আনতেও সক্ষম হয় যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়ও সাইবার অপরাধীদের আশ্রয় দেয়ার কথা অস্বীকার করে রাশিয়া।

২০২১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে এক বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাংবাদিকদের বলেন, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাইবার হামলার শিকার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রাশিয়া অন্তর্ভুক্ত নয়। গত মাসে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তারা র‍্যানসমওয়্যার গ্রুপ রেভিলকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। সাইবার হামলা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সহযোগিতামূলক এমন পদক্ষেপ খুবই বিরল।
চেইনঅ্যানালিসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিচিত সব র‍্যানসমওয়্যার হামলার দ্বারা আয়কৃত অর্থের ৯ দশমিক ৯ শতাংশ হ্যাকিং গ্রুপ ইভিল করপোরেশনের কাছে যায়। গ্রুপটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নানা অভিযোগ সত্ত্বেও এর সদস্যরা রাশিয়ায় বসে সব ধরনের দায়মুক্তিসহ হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গত বছরের নভেম্বরে বিবিসির এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইভিল করপোরেশনের এক নেতা ইগর তুরাশেভ মস্কোর ফেডারেশন টাওয়ারে বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। টাওয়ারটি রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক ঠিকানাসহ বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের জন্য বিখ্যাত। চেইনঅ্যানালিসের প্রতিবেদনে দেখানো হয়, টাওয়ারটিতে অবস্থিত বেশ কয়েকটি ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে হ্যাকাররা তাদের ডিজিটাল ওয়ালেটের অর্থ মূলধারার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করেছিল। গবেষকরা দাবি করেন, মস্কো শহরের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায় গৃহীত তহবিলের মধ্যে ২৯ থেকে ৪৮ শতাংশ অর্থ সংগৃহীত হয় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঠিকানাগুলোর মাধ্যমে।

সুত্রঃ বনিক বার্তা

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

%d bloggers like this: