রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ

0

প্রকৃতিতে এখন বর্ষাকাল চলিতেছে; পুরোপুরিভাবে বর্ষা শুরু না হইলেও মাঝে মধ্যেই হইতেছে বৃষ্টি। আর এই বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা নগরীতে দেখা দিয়াছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত একটি সংক্রামক ব্যাধি। জমে থাকা স্বচ্ছ, পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করিয়া থাকে। সাম্প্রতিক বত্সরগুলিতে বর্ষার শুরুতেই এই রোগের প্রকোপ লক্ষ করা যাইতেছে। সরকারি হিসাব মতে, কেবল গত তিন দিনেই এই রোগে আক্রান্ত হইয়াছে ২৫৪ জন; ইহার মধ্যে একজন ডাক্তারসহ মৃত্যুবরণ করিয়াছে ৮ জন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য নূতন ভয়ের কারণ হইয়া উঠিয়াছে হূদযন্ত্র অচল করার মতো মায়োকার্ডিটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার কারণও ইহা হইতে পারে বলিয়া বিশেষজ্ঞরা জানাইয়াছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, মে মাসে রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় ১৯৩ জন, জুনে ১৬৯৯ জন। দুই-এক দিনের উচ্চমাত্রার জ্বর, সঙ্গে কোমর ব্যথা ও চোখ বা মাথা ব্যথা নিয়া তাহারা চিকিত্সকের শরণাপন্ন হইতেছেন। চিকিত্সকরা জানাইতেছেন, এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করিতে পারে। জ্বর আসিলে চিকিত্সকেরা কেবল প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খওয়ার পরামর্শ দিয়াছেন। অ্যান্টিবায়োটিক বা এসপিরিন জাতীয় ঔষধ না খাওয়ার নির্দেশ দিয়াছেন তারা, কারণ ইহাতে জটিলতা বাড়ে। টানা ৪/৫ দিনে জ্বর না কমিলে এবং শরীরে ব্যথা থাকিলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হইবে। একাধিকবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হইলে তাহাদের ঝুঁকি একটু বেশি। পাশাপাশি বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে।

ডেঙ্গু জ্বর হইতে রক্ষা পাইতে হইলে এডিস মশা নিধনের কোনো বিকল্প নাই, যেহেতু ইহার কোনো প্রতিষেধক বা টিকা এখনও আবিষ্কৃত হয় নাই। লক্ষণীয়, ঢাকা উত্তরের চাইতে ঢাকা দক্ষিণে অপেক্ষাকৃত সচ্ছল নগর বসতিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে যে সমস্ত পদক্ষেপ সিটি করপোরেশনের পক্ষ হইতে গ্রহণ করা হইয়াছে তাহা ফলাফল দেখিয়াই বোঝা যাইতেছে—অপর্যাপ্ত। সিটি করপোরেশনকে আরও জোরালো ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে। তবে ইহাও সত্য যে, প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে গিয়া সিটি করপোরেশনের পক্ষে ঔষধ ছিটানো সম্ভব নহে। তাই জনগণকে সচেতন হইতে হইবে সর্বাগ্রে। নিজেদের আশপাশ নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখিতে হইবে। আঙিনায় জমিয়া থাকা পরিষ্কার পানি, ফুলের টব, এয়ারকুলার, ফ্রিজের নিচে জমিয়া থাকা পানি, ডাব বা নারিকেলের খোসা, টিনের কনটেইনার, গাড়ির টায়ার ইত্যাদিতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে। এইগুলি পরিষ্কার করিয়া ফেলিতে হইবে। রাত্রিকালে ঘুমানোর সময় মশারি টাঙাইতে হইবে। মূলকথা নিজেদের সুরক্ষার ব্যাপারে নিজেদেরই আগাইয়া আসিতে হইবে। ডেঙ্গু যাহাতে কোনোভাবেই মহামারি আকার ধারণ করিতে না পারে সেই ব্যাপারে সকল মহলের দৃষ্টি রাখিতে হইবে। সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সদাতত্পর থাকিতে হইবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

%d bloggers like this: