বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চায় দুদক

0

ঢাকা: সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে দুদক নয়, সিদ্ধান্ত নেবেন বিশেষ জজ আদালত— হাইকোর্টের এমন অভিমতে দিয়ে দেওয়া রায় স্থগিত চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

সোমবার (২২ মার্চ) আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আবেদনটি শুনানির জন্য ২৮ মার্চ দিন রেখেছেন

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো.খুরশীদ আলম খান। অন্য পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড হাসিনা আক্তার।

পরে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘ওই রায় স্থগিত চেয়ে রোববার (২১ মার্চ) আবেদন করেছিলাম। আজ শুনানির জন্য তালিকায় ছিল। কিন্তু অপরপক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করায় শুনানির জন্য ২৮ মার্চ দিন রেখেছেন আদালত। আর ওই দিন পর্যন্ত বিদেশ যেতে পারবেন না নরসিংদীর আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউর রহমান। ’

বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নরসিংদীর আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউর রহমানের করা এক রিট আবেদনে জারি করা রুলের ওপর ১৬ মার্চ রায় দেন হাইকোর্ট।

দুদকের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার চিঠি অবৈধ ঘোষণা করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ অভিমতে বলেন, সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে দুদক নয়, সিদ্ধান্ত নেবেন বিশেষ জজ আদালত।

তবে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আদেশ দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় গাইডলাইন ঠিক করে দেবেন আদালত।

হাইকোর্ট বলেছেন, বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে দুদকের সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি নেই। এ কারণে এ বিষয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধিমালা করা প্রয়োজন। তাই আশা করছি, এ বিষয়ে দুদক বা সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয় আইন বা বিধি করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ওইদিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আদালতের এ আদেশের ফলে এখন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর দুদক এককভাবে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে না। এ নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে তাদের বিশেষ জজ আদালতে আবেদন দিতে হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন তাই হবে। আর কোনো ব্যক্তির বিদেশ যেতে হলে তাকেও বিশেষ জজ আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

ওই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে দুদক।

২০২০ সালের ২৪ আগস্ট আতাউর রহমানের সম্পদের তথ্য চেয়ে নোটিশ দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। এ নোটিশের পর ২২ অক্টোবর তিনি তার সম্পদের তথ্য দুদকে দাখিল করেন। এরপর দুদক অনুসন্ধানে নামে। এ অনুসন্ধানকালে দুদক গত বছরের ২০ ডিসেম্বর আতাউর রহমানের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেয়।

ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন আতাউর রহমান।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.